নিউজ ডেস্ক:বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। সাধারণ মানুষ, কৃষক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষার বিস্তারেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর কর্ম ও অবদান আজও বাঙালির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
শিক্ষার বিস্তারে তাঁর অবদান
শেরেবাংলা বিশ্বাস করতেন, সমাজের উন্নয়ন এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। বিশেষ করে দরিদ্র কৃষক ও পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ, বর্তমান মওলানা আজাদ কলেজ, এবং মুসলিম নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা ও ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ঢাকার কৃষিশিক্ষার বিকাশেও তাঁর অবদান স্মরণ করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
যুক্তফ্রন্ট গঠন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন ফজলুল হক। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ অন্যান্য নেতার সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর তিনি পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে তাঁর সরকার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৫৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা বরখাস্ত করা হয় এবং পূর্ব বাংলায় গভর্নরের শাসন জারি করা হয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ইতিহাসে চিরস্মরণীয় শেরেবাংলা
১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন আবুল কাশেম ফজলুল হক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত তিন নেতার মাজারে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
শিক্ষার প্রসার, কৃষকের অধিকার এবং বাংলার মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জন্মবার্ষিকীতে এই জননেতার জীবন, কর্ম ও অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি অর্থবহ উপায়।

