আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি বিলে স্বাক্ষর করেন। এর মধ্য দিয়ে এটি আইনে পরিণত হয়েছে। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক কয়েকটি দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন আইনের আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছে মার্কিন প্রশাসন। বিশেষ করে রুশ জ্বালানির শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে। তবে কোন কোন দেশকে এই তালিকায় রাখা হবে, তা আইনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট ক্ষমতা মার্কিন প্রশাসনের হাতে থাকছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই রুশ জ্বালানি খাতের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। কিন্তু এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কিনে আসছে। নতুন আইনের মাধ্যমে এসব ক্রেতা দেশের ওপরও চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতাদের মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে। ফলে নতুন আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে ভারতকে ওই শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় রাখা হবে এবং দেশটির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। কারণ, আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
আইনটির নাম ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’। এর মাধ্যমে রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানের ওপরও বিদ্যমান কিছু নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি খাত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত তেলবাহী জাহাজের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
বিলটির প্রধান উদ্যোক্তাদের একজন ছিলেন প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। আগস্টে সিনেটে বিলটি পাস হওয়ার পর ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি পরিষদেও এটি ২৬২-১৫৯ ভোটে অনুমোদিত হয়। এরপরই বিলটি ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়।
ট্রাম্পের স্বাক্ষরের আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিজেদের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানায় নয়াদিল্লি।
ভারতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নতুন মার্কিন আইন বাস্তবায়ন করা হলে এর প্রভাব শুধু ভারত-মার্কিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর রুশ জ্বালানি আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বিশেষ করে ভারতকে শীর্ষ পাঁচ ক্রেতার তালিকায় রাখা হবে কি না এবং হলে দেশটির রপ্তানির ওপর কতটা শুল্ক আরোপ করা হবে—তা নির্ভর করবে মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

