অজু করে ঘুমালে কী হয়, হাদিসে যা বলা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
3 Min Read
ছবি:সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক: ঘুমাতে যাওয়ার আগে অজু করা অনেক মুসলিমের নিয়মিত অভ্যাস। এটি শুধু পরিচ্ছন্নতার জন্য নয়; ঘুমের আগে অজু করার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নতও রয়েছে। হাদিসে অজু করে ঘুমানোর পাশাপাশি ডান কাতে শোয়া এবং নির্দিষ্ট দোয়া পড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঘুমের আগে অজুর নির্দেশ
বারা ইবনু আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁকে বলেছেন, বিছানায় যাওয়ার সময় নামাজের অজুর মতো অজু করে ডান কাতে শুতে। এরপর নির্দিষ্ট একটি দোয়া পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ২৪৭)
অর্থাৎ, ঘুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও অজু করার শিক্ষা রয়েছে হাদিসে। একই সঙ্গে ডান কাতে শোয়া এবং নিজের বিষয়গুলো আল্লাহর কাছে সোপর্দ করার দোয়াও শেখানো হয়েছে।
অজু করে ঘুমানোর ফজিলত
হাদিসে এসেছে, কেউ ওই রাতে মৃত্যুবরণ করলে সে ফিতরাতের ওপর মৃত্যুবরণ করবে। এ কারণে ঘুমানোর আগে অজু করা একজন মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত আমল হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে এটিকে কোনো অলৌকিক ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শেখানো একটি সুন্নত এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে রাত শুরু করার একটি পদ্ধতি।
অজু করার পাশাপাশি যা করা যায়
ঘুমানোর আগে অজু করার সঙ্গে হাদিসে আরও দুটি বিষয় উল্লেখ রয়েছে—ডান কাতে শোয়া এবং নির্দিষ্ট দোয়া পড়া। তাই সম্ভব হলে এই সুন্নতগুলোও পালন করা ভালো।
দোয়াটির শুরুতে আল্লাহর কাছে নিজের চেহারা ও সব বিষয় সমর্পণ এবং তাঁর ওপর নির্ভরতার কথা বলা হয়। এরপর আল্লাহর কিতাব ও তাঁর প্রেরিত নবীর প্রতি ঈমানের বিষয়টি উল্লেখ করে দোয়াটি শেষ করতে বলা হয়েছে।

অজু না করে ঘুমালে কি গুনাহ হবে?
ঘুমানোর আগে অজু করা সুন্নত। তাই অজু না করে ঘুমিয়ে পড়লেই গুনাহ হবে—এমন কথা বলা সঠিক নয়। তবে অজু করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এই সুন্নত আমল না করলে এর ফজিলত থেকে বঞ্চিত হওয়া যায়।
অন্যদিকে, কেউ অজু করে ঘুমানোর পর ঘুমের মধ্যে অজু নষ্ট হয়ে গেলে এতে কোনো সমস্যা নেই। পরবর্তী নামাজের জন্য প্রয়োজন হলে নতুন করে অজু করতে হবে।

ঘুমের আগে আল্লাহর ওপর ভরসার শিক্ষা
ঘুম প্রতিদিনের জীবনের স্বাভাবিক একটি অংশ। আর ঘুমানোর আগে অজু করে আল্লাহর কাছে নিজের বিষয়গুলো সোপর্দ করার মাধ্যমে তাঁর ওপর নির্ভরতার শিক্ষা পাওয়া যায়।
তাই ঘুমানোর আগে অজুকে শুধু শারীরিক পরিচ্ছন্নতার বিষয় হিসেবে না দেখে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শেখানো সুন্নত হিসেবে পালন করা যেতে পারে।
মূল কথা, ঘুমানোর আগে অজু করা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নত। সহিহ বুখারির হাদিসে অজু করে ডান কাতে শোয়া এবং নির্দিষ্ট দোয়া পড়ার নির্দেশ এসেছে। একই হাদিসে ওই রাতে মৃত্যু হলে ফিতরাতের ওপর মৃত্যুবরণের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
সুযোগ থাকলে তাই প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অজু করে, ডান কাতে শুয়ে এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শেখানো দোয়া পড়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা যেতে পারে।

Share This Article
Leave a Comment