সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেকচিগুলোর তালা খুলে চতুর্থবারের মতো টাকা গণনা শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্স ও ডেকচির তালা খোলা হয়। এবার প্রায় চার বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।
টাকা গণনা শেষে মোট অর্থের পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তবে এবার দানবাক্সের অর্থের পাশাপাশি একটি চিরকুট ঘিরে মাজারে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ডেকচির ভেতর পাওয়া ওই চিরকুটে ‘খোকন মামু’র উদ্দেশে লেখা একটি বার্তা রয়েছে।
টাকা গণনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
চিরকুটে লেখকের নাম বা ঠিকানা উল্লেখ নেই। এতে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে খোকন মামুর এই অবস্থা হতো না।’ এরপর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে তাঁদের ‘অন্তরের মায়ার মানুষ’ হিসেবে খোকন মামুর কথা বলা হয়েছে। চিরকুটে একটি হৃদয়ের ছবির সঙ্গে ‘ইউ’ ও ‘মামুজি’ শব্দও লেখা রয়েছে।
চিরকুটটি নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো ‘খোকন মামু’ নামে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে টাকা গণনা চলছে। এ সময় জেলা প্রশাসন, সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন।
টাকা গণনায় উপস্থিত আছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গণমাধ্যমকর্মী, সচেতন নাগরিক ও মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও সরেজমিনে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।
মাজার পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের হিসাব স্বচ্ছতার সঙ্গে সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর বাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দানবাক্স খোলার আগে জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতেই অর্থ গণনা করা হচ্ছে।
এর আগে ১৫ আগস্ট তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স ও মানতের বাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন প্রায় আট ঘণ্টা গণনা শেষে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ, ১৬ ভরি ২ আনা রুপাসহ বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়।
এর আগে ১১ জুলাই দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। ওই সময়ও বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়।
গত ২২ জুন দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
তিন দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। এর বাইরে প্রতিবারই বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া গেছে।
প্রায় এক মাস পর শনিবার চতুর্থবারের মতো দানবাক্স ও ডেকচিগুলোর তালা খোলা হয়। এবার পাওয়া প্রায় চার বস্তা টাকা গণনা চলছে। গণনা শেষ হলে নগদ অর্থের পাশাপাশি অন্যান্য সামগ্রীর হিসাবও জানানো হবে।
সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, আগের মতো একই পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হচ্ছে। গণনা শেষে অর্থ জেলা প্রশাসকের অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
তিনি জানান, অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে একটি কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে। নীতিমালা ও কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।
মাজারে আগত ভক্ত ও পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

