যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
2 Min Read
ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক:উপশিরোনাম: দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে রেহানাকে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় রায়; এক লাখ টাকা জরিমানাও করেছেন আদালত

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রেহানাকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. এরশাদ আলম।

রায় ঘোষণার আগে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। মিজান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, রেহানার সঙ্গে মিজানের বিয়ে হয় ঘটনার প্রায় ১১ বছর আগে। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে রেহানাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন মিজান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় রেহানার পরিবার বিভিন্ন সময়ে আসবাবপত্র ও স্বর্ণালংকার দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি নির্মাণের জন্য টিনের ঘরও তৈরি করে দেয়। এরপরও যৌতুকের দাবি অব্যাহত ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২০ দিন আগে মিজান রেহানার পরিবারের কাছে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে রেহানার ভাই মো. আব্বাস মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা পাঠান। বাকি টাকা না পাওয়ায় রেহানাকে মারধর করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

২০১৯ সালে হত্যা, পরদিন মামলা

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৭টার আগে যেকোনো সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরেরবাগ এলাকার ভাড়া বাসায় রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

পরদিন ২৬ জুলাই নিহতের বড় ভাই মো. আব্বাস দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ মিজানকে গ্রেপ্তার করে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্কাস মিয়া আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

Share This Article
Leave a Comment