নিজস্ব প্রতিবেদক:ভারতের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী মারা গেছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
ভারতীয় চিত্রকলায় বিশেষ অবদান রাখা যোগেন চৌধুরী তাঁর স্বতন্ত্র শিল্পশৈলী ও ব্যঙ্গাত্মক চিত্রকর্মের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। রাজনীতি ও সমাজের নানা অসংগতি তাঁর ছবিতে উঠে এসেছে। তাঁর শিল্পকর্মে ভারতীয় ও ইউরোপীয় শিল্পধারার প্রভাব লক্ষ করা যায়। বিভিন্ন সময়ে দুর্গাপূজার থিমের নকশাও করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাংলাদেশের পক্ষে ভূমিকা রেখেছিলেন যোগেন চৌধুরী। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাস কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের যেসব কবি, লেখক ও শিল্পী বাংলাদেশের পক্ষে বিভিন্নভাবে কাজ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
ফরিদপুরে জন্ম, শিল্পচর্চা কলকাতায়
যোগেন চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৯ সালে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দহরপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন ফরিদপুরের জমিদার। তাঁর মা আলপনা আঁকতেন। মায়ের আঁকাআঁকি থেকেই ছোটবেলায় ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ জন্মায় তাঁর।
দেশভাগের সময় তাঁর পরিবার কলকাতায় চলে যায়। সেখানেই শুরু হয় তাঁর শিল্পশিক্ষা। তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফটে পড়াশোনা করেন। পরে হাওড়া জেলা স্কুলে অঙ্কন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন তিনি।
উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৬৫ সালে প্যারিসে যান যোগেন চৌধুরী। দেশে ফিরে শান্তিনিকেতনের কলা ভবনের অধ্যাপক ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারিতে কিউরেটরের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন
শিল্পচর্চার পাশাপাশি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ভারতের রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০২০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন এই শিল্পী।
দেশভাগের কারণে শৈশবে উদ্বাস্তুজীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়েছিল তাঁকে। সেই জীবনের ক্ষত ও অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পকর্মেও প্রতিফলিত হয়েছে।
পরিবারের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রায় ১৪ মাস ধরে ব্লাড ক্যানসারে ভুগছিলেন যোগেন চৌধুরী। গত ১৬ অক্টোবর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই রোববার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

