যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্ত কী কী

নিজস্ব প্রতিবেদক
4 Min Read
ছবি:সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানে ধাপে ধাপে সমঝোতার উদ্যোগ চলছে। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের কারণে অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তেহরান চাইছে ইরানের ওপর থাকা মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া হোক। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান দাবি, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল অবাধ করতে হবে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো পক্ষই আলোচনার শুরুতেই নিজেদের হাতে থাকা চাপ প্রয়োগের উপায় ছেড়ে দিতে চাইছে না। তবে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়তে থাকায় তেহরানের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান অচলাবস্থা কাটানোর একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে ধাপে ধাপে সমঝোতা। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার প্রথম পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা শিথিল করবে। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ব্যবহারের অধিকারও ফিরে পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
তবে এর আগে জুলাইয়ে একটি সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ায় নতুন কোনো অন্তর্বর্তী চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। ফলে এমন একটি কাঠামো তৈরি করাই আলোচকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, যাতে উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বাসযোগ্য থাকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি হতে পারে। ইউরোপের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, আলোচনায় ইরানের দাবির পরিধি বেশ বিস্তৃত।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরান চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে তাদের হাতে এখনো বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইরানের অর্থনৈতিক সংকটকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।

সাবেক মার্কিন আলোচক ডেনিস রসের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা সীমিত। তবে তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনের আগে ও পরে উভয় পক্ষের জন্যই সমঝোতায় যাওয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে।
আলোচনা সফল হলে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা কমতে পারে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমার সুযোগ পাবে ইরান।

তবে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জন্যও প্রস্তুতি রাখছে তেহরান। ওই জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলেও তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
এদিকে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ ইরানের প্রধান উদ্দেশ্য নয়। বরং জলপথটির ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।

নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারাও ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। ইরান আলোচনায় ফিরে না এলে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান চালাবে কি না, সে বিষয়েও তারা স্পষ্টতা চেয়েছেন।
উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করেছে। তাদের অবস্থান, গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচল অবাধ থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন করে সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে উত্তেজনা কমিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে তারা।

Share This Article
Leave a Comment